অবশ্যই! একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। ভর্তির জন্য একাদশ শ্রেণিতে/ HSC ভর্তির পূর্বেই যে তথ্য জানা দরকার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের, তা নিচে ধাপে ধাপে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
ভর্তির পূর্বপ্রস্তুতি (আবেদনের আগে করণীয়)
১. এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফল: একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির মূল ভিত্তি হলো এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফল। আপনার প্রাপ্ত GPA (Grade Point Average) অনুযায়ী কলেজ নির্বাচনের সুযোগ পাবেন।
২. বিভাগ নির্বাচন (Group Selection): আপনাকে বিজ্ঞান, মানবিক নাকি ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিনটি বিভাগের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।
বিজ্ঞান (Science): যারা ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা গবেষণাধর্মী পেশায় যেতে চান, তাদের জন্য উপযুক্ত। সাধারণত বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো জিপিএ প্রয়োজন হয়।
মানবিক (Humanities/Arts): যারা আইন, সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা বা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে কাজ করতে চান, তাদের জন্য এই বিভাগ।
ব্যবসায় শিক্ষা (Business Studies/Commerce): যারা ভবিষ্যতে ব্যাংকিং, অ্যাকাউন্টিং, মার্কেটিং বা ব্যবসা সম্পর্কিত পেশায় যেতে চান, তাদের জন্য এই বিভাগটি সেরা।
৩. কলেজ নির্বাচন: প্রিয় শিক্ষার্থী এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কলেজ নির্বাচনের সময় নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুন:
কলেজের খ্যাতি ও ফলাফল: কলেজের পূর্ববর্তী বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল কেমন তা জেনে নিন।
আপনার জিপিএ: আপনার প্রাপ্ত জিপিএ-এর সাথে কলেজের সর্বনিম্ন ভর্তির যোগ্যতা মিলিয়ে দেখুন।
অবস্থান ও যাতায়াত ব্যবস্থা: বাসা থেকে কলেজের দূরত্ব এবং যাতায়াত সুবিধা কেমন, তা বিবেচনা করুন।
শিক্ষার খরচ: কলেজের মাসিক বেতন ও অন্যান্য খরচ আপনার পরিবারের জন্য উপযুক্ত কিনা তা জেনে নিন।
সহশিক্ষা কার্যক্রম: পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বা অন্যান্য ক্লাবের সুবিধা আছে কিনা, তা দেখতে পারেন।
অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া
বর্তমানে সম্পূর্ণ ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হয়। এর জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়:
১. ভর্তি সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পরিচালিত হয়। তারুণ্য কম্পিউটার থেতে আবেদন সংক্রান্ত সর্ব প্রকার সহযোগীতা করা হয়।
২. আবেদনের সময়সীমা: এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষা বোর্ড থেকে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এই বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শুরু ও শেষের তারিখ উল্লেখ থাকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আবেদন করতে হবে। তাই এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীকে সচেতন থাকতে হবে।
৩. আবেদন ফি প্রদান: অনলাইনে আবেদনের আগে আবেদন ফি প্রদান করতে হয়। সাধারণত বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় বা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ফি জমা দিতে হয়। তাই মোবাইল নম্বরটি সঠিকভাবে বার বার চেক করে নিতে হবে। ফি জমা দেওয়ার পর একটি ট্রানজেকশন আইডি (TxnID) পাবেন, যা আবেদন করার সময় প্রয়োজন হবে। ট্রানজেকশন আইডি (TxnID) সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। এটি খুব দরকারি। যদিও তারুণ্য কম্পিউটার প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা আলাদা ফোল্ডার পিসিতে সংরক্ষণ করে যা বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হলে প্রদান করে থাকে।
৪. আবেদন ফরম পূরণ: আপনার এসএসসি পরীক্ষার রোল নম্বর, বোর্ড, পাসের সাল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিন।
সব তথ্য সঠিক থাকলে আপনার নাম, জিপিএ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে পাবেন।
আপনার মোবাইল নম্বর এবং কোটা (যদি থাকে) উল্লেখ করতে হবে।
এরপর কলেজ নির্বাচনের অপশন আসবে। আপনি সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দ করতে পারবেন। পছন্দক্রমটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনার প্রথম দিকের পছন্দের কলেজে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
কলেজ, বিভাগ এবং শিফট (সকাল/দিবা) সঠিকভাবে নির্বাচন করুন।
সব তথ্য যাচাই করে আবেদনটি সাবমিট করুন। সাবমিট করার পর একটি কনফারমেশন স্লিপ আসবে, যা আপনি প্রিন্ট করে বা ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে পারেন।
আবেদনের পরবর্তী ধাপসমূহ
১. ফলাফল প্রকাশ: আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কিছুদিন পর প্রথম মেধাতালিকা (1st Merit List) প্রকাশ করা হয়। আপনি ওয়েবসাইটে আপনার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফলাফল দেখতে পারবেন।
২. ভর্তি নিশ্চায়ন ( খুবই গুরুত্বপূর্ণ):
আপনি যদি প্রথম তালিকায় কোনো কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হন, তবে আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ফি (সাধারণত ৩০০-৩৫০ টাকা) জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে।
ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে আপনার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে এবং আপনি প্রথম তালিকা থেকে বাদ পড়বেন। এরপর আপনাকে পুনরায় আবেদন করতে হতে পারে (যদি সুযোগ থাকে)।
৩. মাইগ্রেশন (Migration):
ভর্তি নিশ্চায়ন করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাইগ্রেশনের সুযোগ থাকে।
মাইগ্রেশন হলো আপনার পছন্দের তালিকায় উপরের দিকের কোনো কলেজে আসন খালি হলে সেখানে আপনার ভর্তির সুযোগ পাওয়া। যেমন, আপনি যদি আপনার ৩য় পছন্দের কলেজে সুযোগ পান, মাইগ্রেশনের মাধ্যমে আপনার ১ম বা ২য় পছন্দের কলেজে যাওয়ার সুযোগ হতে পারে।
আপনি যদি মাইগ্রেশন না চান, তবে ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট অপশন থেকে তা বন্ধ করতে পারবেন।
৪. পরবর্তী মেধাতালিকা: যারা প্রথম তালিকায় সুযোগ পায়নি বা পেয়েও ভর্তি নিশ্চায়ন করেনি, তাদের জন্য দ্বিতীয় এবং পরবর্তীতে তৃতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়।
চূড়ান্তভাবে কলেজে ভর্তি
অনলাইনে নিশ্চায়ন করার পর শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত তারিখে নির্বাচিত কলেজে গিয়ে সশরীরে ভর্তি হতে হবে। এ সময় নিচের কাগজপত্রগুলো প্রয়োজন হবে:
1. এসএসসি পরীক্ষার মূল মার্কশিট বা একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট।
2.এসএসসি পরীক্ষার মূল প্রবেশপত্র (Admit Card) ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড।
3. পাসপোর্ট সাইজের ছবি (সাধারণত ২-৪ কপি)।
4. অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি এবং নিশ্চায়নের প্রমাণ।
5. বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
6. কলেজ থেকে দেওয়া ভর্তি ফরম।
7. কলেজভেদে কিছু অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে, তাই ভর্তির আগে কলেজের নোটিশ বোর্ড বা ওয়েবসাইটে দেখে নেওয়া ভালো।
বিশেষ পরামর্শ:
ভর্তি সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য শুধুমাত্র ওয়েবসাইট ও নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য থেকে সতর্ক থাকুন। তারুণ্য কম্পিউটার, ঝালকাঠি সঠিক তথ্য জেনে প্রকাশ ও প্রচার করে থাকে। তবুও কোন তথ্যে ভুল থাকলে অবহিত করবেন। কলেজ বা শিক্ষা বোর্ড বিজ্ঞপ্তি গুলো ভালো করে পড়তে হবে।
শিক্ষা জীবনের দ্বিতীয় ধাপে পা দিবেন আপনি তাই খুব খুবই সর্তক থাকতে হবে। ২৪ রোনালস রোড, ঝালকাঠিতে আমাদের প্রতিষ্ঠান।
আবেদনের সময়সীমা ও নিশ্চায়নের তারিখ খুব ভালোভাবে মনে রাখুন।
শুভকামনা রইল আপনার কলেজ জীবনের জন্য
বিস্তারিত....
Leave a Reply